গাভির খামার করে সফল মাস্টার্স পাস মাহামুদুল

অনলাইন ডেস্ক:: মাহামুদুল হক মাস্টার্স পাস করে যখন সহপাঠীরা চাকরির জন্য ছুটছিলেন তখন মাহামুদুল হক উদ্দ্যোক্তা হয়ে নিজে কিছু করার জন্য হাঁটলেন ভিন্ন পথে।  শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে গড়ে তুললেন গরুর খামার। ১০ বছরের মাথায় এখন তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে ফরিদাবাদ গ্রামের মাহামুদুল হকের বাড়ি। গ্রামে ঢুকেই চোখে পড়ে মাঠজুড়ে অসংখ্য গাভি আর বাছুর চড়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের নারী-পুরুষেরাও যে যাঁর মতো কর্মব্যস্ত।

মাহামুদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তিনি গাভির দুধ সংগ্রহে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর খামার থেকে বেরিয়ে এলেন। এরপর গাভির খামার করার শুরুর গল্প শোনালেন। মাহামুদুল হক জানান, ২০০৯ সালে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের মার্কেটিং বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করেন। এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু একটা করার কথা ভাবেন। ২০১০ সালে তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার জাদুলস্কর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে বড় বড় গাভির খামার দেখে এসে গাভি পালনের পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি নিয়ে মাহামুদুল তাঁর বাবা মোজাহারুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করেন। একই বছরের জুনে নিজের জমানো ২০ হাজার এবং বাবার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দুটি শংকর জাতের বকনা বাছুর কেনেন।

আরও পড়ুন :: লাভজনক ছোট পাঁচ ব্যবসার আইডিয়া

বছর তিনেক পর বাছুর দুটি গাভিতে পরিণত হয়। প্রতিদিন ৩০ লিটার দুধ দিতে শুরু করে। এ দুধ বিক্রি করে খরচ বাদে দিনে প্রায় ৪০০ টাকা আয় হয়। এভাবে ২ বছরে আরও চারটি শংকর জাতের গাভি কেনেন। ছয়টি গাভি দিয়ে শুরু করেন ডেইরি খামার। বর্তমানে মাহামুদুলের খামারে দেশি-বিদেশি গাভি মিলে মোট গাভির সংখ্যা ২৬টি। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ১৪০-১৫০ লিটার দুধ পান। প্রতি লিটার দুধ ৪০ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে দৈনিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পান। বছরে ২ লাখ টাকার গাভিও বিক্রি করেন তিনি।

মাহামুদুল জানান, খামারের আয়ের টাকায় আবাদি জমি কিনেছেন। মাছ চাষের জন্য খনন করেছেন পুকুর। গাভির খামারও করেছেন পাকা।

এদিকে  তাঁর দেখানো পথে হেঁটে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ গ্রামের অন্য বেকার তরুণ–যুবকেরাও।

তথ্যসুত্র : দৈনিক প্রথম আলো