যেভাবে বুঝবেন আপনার করোনা হয়েছে কি না

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বদলে যাচ্ছে উপসর্গের ধরন। চেনাশোনা অনেকেই করোনা আক্রান্ত। ব্যাপারটাকে অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অনেকে আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে যাঁদের কাজের প্রয়োজনে নিয়ম করে বাইরে বেরতে হচ্ছে তাঁদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভাবছেন তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন কিনা।

কী কী উপসর্গ দেখা গেলে কোভিড সংক্রমণের আশঙ্কা করতে হবে?

ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যোতিষ্ক পাল বলেন,কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে শুরুর দিকে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা এলে কোভিড টেস্ট করে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছিল। এর পর হাসপাতালে এমন কিছু রোগী আসতে শুরু করলেন যাঁদের সিনকোপ, অর্থাৎ সাময়িক ভাবে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস ছিল। এঁদের অনেকের শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে কমে যাওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েন। রুটিন মতো এঁদের কোভিড টেস্ট করে কোভিড-১৯ ভাইরাস পাওয়া গেল।

আরও পড়ূন>> করোনাভাইরাস থেকে বাচতে দেবী শেঠির ১০ পরামর্শ

মেডিসিনের চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানালেন,করোনা আক্রান্তদের কী ধরনের উপসর্গ দেখা যাবে তা কিছুটা নির্ভর করে ভাইরাল লোডের উপর। অর্থাৎ যার শরীরে ভাইরাল লোড কম, তিনি সাধারণত অ্যাসিম্পটোম্যাটিক থাকবেন, অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য কোনও উপসর্গ দেখা যাবে না। মাঝারি মানের ভাইরাল লোড হলে অল্প জ্বর, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, সামান্য গলাব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে, আর ভাইরাল লোড বেশি হলে শরীর বেশি খারাপ হবে। সুকুমারবাবু জানালেন, যে কোনও ছোটখাট উপসর্গও অনেক সময় মারাত্মক আকার নিতে পারে। তাই কোনও অবস্থাতেই এই অতিমারি সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোভিড টেস্ট করানো উচিত।

এক নজরে জেনে নেওয়া যাক কী কী লক্ষণ দেখলে করোনার আশঙ্কা করতে পারেন।

১. গলা ব্যথা, সর্দি

২. শুকনো কাশি

৩. জ্বর জ্বর ভাব

৪. দুর্বলতা, গা ম্যাজম্যাজ করা

৫. মাথা, গা, হাত-পা ব্যথা করা

৬. জিভের স্বাদ ও গন্ধের বোধ চলে গিয়ে খাবার খেতে অনীহা

৭. মাথা ব্যথা

৮. চোখ লাল হয়ে জল পড়া

৯. ডায়ারিয়া ও পেটে ব্যথা

১০. হাত ও পায়ের আঙুলের রং বদলে যাওয়া

১১. ত্বকে র‍্যাশ ও চুলকানি

১২. বুকে চাপ ধরা ভাব ও যন্ত্রণা

১৩. নিঃশ্বাসের কষ্ট, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া

১৪. আচমকা কয়েক মিনিটের জন্যে ব্ল্যাক আউট হয়ে যাওয়া

১৫. কথা বলতে অসুবিধে হওয়া।

উপরের উপসর্গের কোনও একটি দেখলেই যে আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে দৌড়াবেন না। লক্ষণগুলি যদি থেকেই যায়, সমস্যা বাড়তে শুরু করে তখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

তথ্যসুত্র:আনন্দবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *