খুপরি ঘরে মৃত্যু ফাঁদে শিশু সন্তান নিয়ে শেফালী’র বসবাস!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশে চলছে তীব্র শৈত্য প্রবাহ। শীতে কাবু মানুষজন বাইরে থেকে একটু গরম প্রশান্তি অনুভব ও মাথা গোজার টাইয়ের জন্য ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু সেই ঘরই যখন অনিরাপদ ও অনিশ্চিত জীবনের দিকে নিয়ে যায় তখন সেই মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বা মাথা গুজবে? সেই মাথা গোজার টাইয়ের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শেফালী বেগম নামে এক হতদরিদ্র মহিলা।

শেফালি বেগম ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়েনের কটাল পুর কোনাপাড়া গ্রামের মৃত কলমন্দর আলীর মেয়ে। পিতৃ ও মাতৃহীন দুই সন্তানের জননী শেফালী বেগম পিতার ১.৬ শতক ভূমিতে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। শেফালী বেগমের স্বামী পিন্টু আহমদ মাদকাসক্ত। মাদকাসক্ত স্বামীর কারনে মানুষের দান ও ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে শেফালী বেগমের চারজনের সংসার। বাপের ছোট্ট বসত ভিটা থাকলে ঘরের অবস্থা জীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ টিন ঘর আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর ও ঝুকিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন শেফালী বেগম। ঘরের সবকটি বাশের খুটিতে পোকা ও টিনের চালে মরিচা ধরে টিনের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ছে। গত ঝড়-বৃষ্টিতে খুটিগুলো ভেঙ্গে ঘর হেলে পড়েছে। বাশ দিয়ে কোনোমতে চাল টেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঘরের চারিদিকের বেড়া ও হেলে পড়েছে।নড়বড়ে বসবাসের অনুপযোগী ঘর যেকোনো সময় ভেঙ্গে জীবন হানি ঘটতে পারে।

শেফালী বেগম বলেন, ঘরের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় ভেঙ্গে মাথার উপর পড়তে পারে। শীতের সময় ভাঙ্গা ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিনযাপন করছি। বাতাস ও টান্ডার কারনে বাচ্চাদের অসুখ-বিসুখ লেগে থাকে। তিনি আরো জানান, কয়েকমাস আগে উত্তর কুশিয়ারা আন্তর্জাতিক অনলাইন গ্রুপ নামে একটি প্রবাসী সংস্থা ঘর তুলে দেওয়ার কথা বলে আমাকে নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করে। কিন্তু এরপর তাদের আর দেখা পাইনি।

আরও পড়ুন: মৃত্যু ফাঁদ ফেঞ্চুগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলী সড়ক

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, শুনেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য মাথা গোজার টাই করে দিচ্ছেন। কিন্তু আমার মাথা গোজার টাই নেই! এইসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সরকারী বাড়ি দাবী করেন , যাতে শিশু সন্তান নিয়ে একটু শান্তিতে বসবাস করে মরতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, শেফালীর ঘর নির্মানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে উত্তর কুশিয়ারা অনলাইন গ্রুপ নামে একটি প্রবাসী সংস্থা ঘর তুলে দেওয়ার কথা বললে আমি স্বাগত জানাই। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা তাদের কথা রাখেনি। এদিকে ঝুকি নিয়ে সে ঘরে বসবাস করছে। তাই শেফালীর ঘরের বিষয়টি আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবো।

উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু বলেন, শেফালী বেগমের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সরকারী কোনো ঘরের বরাদ্ধ নেই। তারপর ও তার অসহায়ত্ব দেখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে সব সময় সহযোগিতা করা হয়।

এই বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাখি আহমেদ বলেন, এই মুহুর্তে সরকারী ঘরের কোনো বরাদ্ধ নেই, সরকারী কোনো বরাদ্ধ পেলে তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর দেওয়া হবে।